শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মুসলিম বিশ্বের উদ্দেশে খোলা চিঠি ইরানি নিরাপত্তা প্রধানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মুসলিম দেশগুলোর সমর্থন ও সংহতি চেয়ে এক খোলা চিঠি দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ও শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি। আরবি ভাষায় লেখা এই বার্তায় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করার আহ্বান জানান।

মুসলিম বিশ্বের উদ্দেশে খোলা চিঠি ইরানি নিরাপত্তা প্রধানের
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মুসলিম দেশগুলোর সমর্থন ও সংহতি চেয়ে এক খোলা চিঠি দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ও শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি। আরবি ভাষায় লেখা এই বার্তায় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করার আহ্বান জানান।

চিঠিতে লারিজানি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ মূলত একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং অন্যদিকে প্রতিরোধকারী শক্তির লড়াই। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই কারও প্রতি অনুগত নয় এবং ইসরায়েল সবার অভিন্ন শত্রু। ইরান কখনোই প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না বরং সর্বদা ভ্রাতৃত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ইরান ‘মার্কিন-জায়নবাদী’ জোটের অন্যায় আক্রমণের শিকার হওয়া সত্ত্বেও মুসলিম দেশগুলোর পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সমর্থন না পাওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ইরানের সাহসী জনতা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে এবং এই আগ্রাসনের চরম মূল্য দিতে হবে আক্রমণকারী পক্ষকে।

উল্লেখ্য, গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সঙ্গে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।

জবাবে ইরানও থেমে থাকেনি। তারা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো যখন তাদের ভূখণ্ডে ইরানি হামলার নিন্দা জানাচ্ছে, ঠিক তখনই মুসলিম উম্মাহর আবেগকে নাড়া দিতে আলি লারিজানির এই চিঠিটি সামনে এল।