শরীয়তপুরে এক নারীকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া, মুখে কালি মাখানো এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন নারীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার উত্তর পালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, স্থানীয় কয়েকজন নারীর সঙ্গে ওই নারীর টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী লিবিয়াপ্রবাসী। তিনি সন্তানদের নিয়ে উত্তর পালং এলাকায় বসবাস করেন। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে টাকা ধার দেওয়ার দাবি করেছেন তিনি। সেই টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় দেলোয়ার কোটারির সঙ্গে আমার টাকা-পয়সার লেনদেন রয়েছে। নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করে তিনি আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা অজুহাত দিচ্ছিলেন। এক সপ্তাহ আগে আমি টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিই। এরপর সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ এলাকায় ফিরে আসার পর দেলোয়ারের স্ত্রী, মেয়ে ও তাদের সহযোগীরা আমাকে মারধর করেন। তারা আমার চুল কেটে মুখে কালি মেখে খুঁটিতে বেঁধে রাখেন। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। আমি মামলা করব।’
তবে ওই নারীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেলোয়ার কোটারির স্ত্রী আমেনা বেগম। তিনি বলেন, ‘(ভুক্তভোগী নারী) প্রায়ই আমার স্বামীকে ফোন করে টাকা চাইত। কিছুদিন আগে তিনি আমার স্বামীকে ফোন করে জানান যে তার পা ভেঙে গেছে এবং টাকার প্রয়োজন। আমার স্বামী তাকে দেখতে গেলে তাকে আটকে রাখে এবং জোরপূর্বক কিছু টাকা নেয়।’
আমেনা বেগম আরও অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার জের ধরেই ওই নারীকে আটকে রাখা হয়েছিল। তার দাবি, এখন নিজের অপকর্ম আড়াল করতেই টাকা পাওনার বিষয়টি সামনে আনছেন তিনি।