নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় পৈতৃক ও মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কৃষ্ণপদ আর্চয্য (৭৩) নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ছোট কালিয়া গ্রামের সাইদের দোকানের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত কৃষ্ণপদ আর্চয্য ওই গ্রামের প্রয়াত সন্তোষ আর্চয্যের সন্তান। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিন যুবক হলেন— আশিকুর রহমান সুমন, আকিবুর রহমান মিলন এবং মাহিদুল শেখ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানান, ঘটনার রাতে কৃষ্ণপদ কালিয়া বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ছোট কালিয়া এলাকায় পৌঁছালে সুমন, মিলন ও মাহিদুল তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে তার মাথায়, হাতে ও পায়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণপদ জানান, স্থানীয় মনসা মন্দিরের জায়গা এবং তার নিজস্ব পৈতৃক জমি নিয়ে প্রতিবেশী ফজর শেখ ও ওলিয়ার রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছে। সেই বিরোধের জেরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনো বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।