নরসিংদীতে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছে ২০ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার প্রথম দিনেই নিয়মিত শিক্ষার্থীদের হাতে অনিয়মিত বা পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা নরসিংদী প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই গুরুতর ঘটনার বর্ণনা দেন।
জানা গেছে, বুধবার অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই বিভ্রাট ঘটে। ওই কেন্দ্রের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে থাকা ২০ জন পরীক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের নিয়মিত প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০২৫ সালের ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা প্রশ্ন দেওয়া হয়। বিষয়টি তৎক্ষণাৎ পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকদের নজরে আনলে সমাধান না করে উল্টো তাদের ধমক দিয়ে ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা পুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ফেমাস ইন্সটিটিউট, হাজী শমসের আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঘাঘটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী। জিপিএ-৫ প্রত্যাশী মেধাবী অনেক শিক্ষার্থী এখন পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়ায় তাদের সারা বছরের প্রস্তুতি ও পরিশ্রম এখন বৃথা হওয়ার পথে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা এই ঘটনার জন্য কেন্দ্র সচিব, হল সুপার এবং সংশ্লিষ্ট কক্ষের পরিদর্শকদের চরম গাফিলতিকে দায়ী করছেন। সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার এ. কে. এম শাহজাহান জানান, প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় ন্যূনতম সতর্কতা অবলম্বন করলে এমন বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো। শিক্ষকদের ভুলের দায় এখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর গিয়ে বর্তেছে।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাশেদুজ্জামান জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।