ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়ে বড় পরিবর্তন এনেছেন হাইকোর্ট। রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাহাদাত হোসেন শামীম।
একই রায়ে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক ক্ষমতা কমানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনাকে আদালত ‘গণহারে’ মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ডেথ রেফারেন্স এবং নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিলের ওপর ১৭ কার্যদিবস শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন নুসরাত জাহান রাফি। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৯ বছর। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আখতার অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এর কয়েক দিন পর ৬ এপ্রিল সিরাজ-উদ-দৌলার সহযোগীরা নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাত চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ১০ এপ্রিল মারা যান।
নুসরাত হত্যা মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ। ওই রায়ে মামলার ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে তৎকালীন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা ছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত দুই নেতাও ছিলেন।