ইরান ইস্যুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানে ইউরোপীয় মিত্রদের আশানুরূপ সহায়তা না পাওয়ায় উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর পাশে থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) ফ্লোরিডার মিয়ামিতে আয়োজিত এক বিনিয়োগ ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ট্রাম্প সরাসরি জানান, সংকটের সময়ে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলো যদি ওয়াশিংটনের পাশে না দাঁড়ায়, তবে আমেরিকার পক্ষ থেকেও তাদের সুরক্ষা দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ওয়াশিংটন ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেনি। তবে হামলার পরবর্তী সময়ে ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশ এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করায় তিনি চরম উষ্মা প্রকাশ করেন। মিত্রদের এমন ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় তাদের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু বর্তমানে তাদের নেতিবাচক অবস্থানের কারণে জোটের প্রতি আমেরিকার দায়বদ্ধতা বজায় রাখার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না।
ট্রাম্পের মতে, পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতেই এই জোট পরিচালিত হওয়ার কথা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি মিত্ররা বিপদের দিনে আমেরিকার হাত ছেড়ে দেয়, তবে কেন ওয়াশিংটন তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব বহন করবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলমান রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে ন্যাটোর ইউরোপীয় মিত্রদের নিষ্ক্রিয়তা এবং কিছু ক্ষেত্রে বিরোধিতার বিষয়টি মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে আগে থেকেই অস্বস্তি তৈরি করেছিল। খোদ প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে আসা এমন মন্তব্য ন্যাটোর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা এবং আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।