ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় ওডেসা ছেড়ে আসার পরপরই একটি পণ্যবাহী জাহাজে ভয়াবহ মিসাইল হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন ভারতীয় নাবিক।
একই ঘটনায় আরো এক ভারতীয় গুরুতর জখম হয়েছেন। আকস্মিক এই ধ্বংসাত্মক আক্রমণের জন্য মস্কোকে কাঠগড়ায় তুলেছে কিয়েভ। তবে সার্বিক পরিস্থিতির তীব্র প্রতিবাদ জানালেও আনুষ্ঠানিক বার্তায় রাশিয়ার নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছে নয়াদিল্লি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই শেষ বিকেলের দিকে গিনি-বিসাউ রাষ্ট্রের পতাকা সংবলিত 'এমভি গোল্ডেন লিও' নামের জলযানটি ওডেসা ছেড়ে রওয়ানা দেওয়ার মুহূর্তে এই গোলার শিকার হয়। ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যসূত্রে জানা গেছে, যানটিতে মোট ১৭ জন ক্রু অবস্থান করছিলেন, যাদের মধ্যে ভারতের নাগরিক ছিলেন ৫ জন।
নয়াদিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে থাকা তাদের কূটনৈতিক মিশন পুরো বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের প্রতি সহানুভূতি জ্ঞাপনসহ আহত নাবিকের দ্রত সুস্থতা প্রার্থনা করা হয়েছে।
বেসামরিক নৌযান ও নিরস্ত্র নাবিকদের লক্ষ্য করে এমন প্রাণঘাতী আক্রমণের কড়া সমালোচনা করেছে ভারত। আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ বাণিজ্য ও নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি সহ সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করার এই প্রবণতাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটি।
অন্যদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনটি ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে রুশ বাহিনী এই তাণ্ডব চালিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে ঘটে যাওয়া সসংঘাতগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বিধ্বংসী আক্রমণ।
ইউক্রেনীয় নৌবহরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, শস্যজাতীয় খাদ্যপণ্য বহনকারী জাহাজটিতে ভারতীয়দের পাশাপাশি সিরীয় নাগরিকরাও কর্মরত ছিলেন। হামলার পর বিকট বিস্ফোরণে যানটিতে আগুন ধরে যায়।
পরবর্তী সময়ে উদ্ধারকারী দলের টানা তল্লাশি অভিযানে ৯ জন ক্রু এবং একজন নৌ-পাইলটের প্রাণহীন দেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। ১৭ সদস্যের বহর থেকে ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
শিপিং তথ্যানুসারে, ভুক্তভোগী জাহাজটির মালিকানা রয়েছে ভারতের মুম্বাইভিত্তিক ওশান গ্রেস শিপিং লিমিটেডের হাতে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, চলতি মাসেই ওডেসা সংলগ্ন এলাকায় সামরিক হামলায় প্রায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অপরদিকে বেলগোরোদ অঞ্চলে একটি বাসে ড্রোন বিস্ফোরণে এক শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার পেছনে ইউক্রেনকে দায়ী করছে রাশিয়া। একই দিনে ইউক্রেনের ভূখণ্ডেও প্রতিপক্ষের হামলায় বেশ কয়েকজন নাগরিক মারা গেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তজুড়ে দুপক্ষের সংঘাত বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।