বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ওমান সফর শেষে ফের পাকিস্তানে যাবেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন ও যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য নিয়ে ওমান সফর শেষে পুনরায় পাকিস্তানে ফিরছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ওমান সফর শেষে ফের পাকিস্তানে যাবেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন ও যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য নিয়ে ওমান সফর শেষে পুনরায় পাকিস্তানে ফিরছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রোববার সকালে ইসলামাবাদ ত্যাগ করলেও রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তিনি আবারও পাকিস্তানে যাত্রাবিরতি করবেন। মূলত চলমান সংকট নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা এগিয়ে নিতেই তার এই সংক্ষিপ্ত প্রত্যাবর্তন।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিনিধিদলের একাংশ যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তেহরানের নীতিনির্ধারকদের নির্দেশনা গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে ইরানে ফিরে গেছে। রোববার রাতেই তাদের পুনরায় ইসলামাবাদে পৌঁছে আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে সফরের প্রথম পর্যায়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাঘচি। ওই বৈঠকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে তেহরানের সুনির্দিষ্ট শর্ত ও দাবিসমূহ আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে আগ্রহী নয়। তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান এখন তেহরানের এই 'নীতিগত অবস্থান' ও প্রস্তাবগুলো মার্কিন প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক মহলে এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের পূর্বনির্ধারিত ইসলামাবাদ সফরটি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে, তবুও পাকিস্তানের মাধ্যমে চলমান এই পরোক্ষ যোগাযোগ যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তেহরান থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিস্তারিত রূপরেখা ইতিমধ্যে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ওমান ও পাকিস্তান হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দৌড়ঝাঁপ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরানের সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।