প্রকৃতিতে সবেমাত্র বৈশাখ শুরু হলেও প্রমত্তা পদ্মা এখনই সংহারি রূপ ধারণ করেছে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের প্রবণতা দেখা দিলেও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় কোনো আগাম সংকেত ছাড়াই অসময়ে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন।
বিগত কয়েক দিনে পদ্মার করাল গ্রাসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। হঠাৎ শুরু হওয়া এই ভাঙনের ফলে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের চোখে এখন ঘুম নেই। বৃহস্পতিবার বিকেলে মুন্সিবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার প্রবল স্রোতে তীরের মাটি ধসে পড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ, জনবহুল বাজার, কবরস্থান এবং সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এমনকি স্থানীয়দের চলাচলের প্রধান সড়কটিও যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বারবার ভাঙনের শিকার হওয়া লোকমান সরদার নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, ইতিপূর্বে চারবার ভিটামাটি হারিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এখন তার আবাদি জমি ও ফসল নদীতে চলে যাচ্ছে। দ্রুত বালুর বস্তা বা জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা না গেলে এলাকাটি মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। আশি বছর বয়সী সামাদ সরদারের কণ্ঠেও একই হাহাকার। দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে এই নদীর সাথে লড়াই করে কোনোমতে টিকে থাকা এই বৃদ্ধের শেষ সম্বলটুকুও এখন পদ্মার গ্রাসে যাওয়ার পথে।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এখানে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হোক। তবে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে তারা জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার দাবি জানালেও প্রশাসনের ধীরগতিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাথী দাস জানান, তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। তবে ভাঙনকে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এটি স্থায়ীভাবে রোধ করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন।
অন্যদিকে, রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. তাজমিনুর রহমান দাবি করেছেন যে, ভাঙনকবলিত স্থানের একদম কাছে জনবসতি নেই, বরং কিছু দূরে রয়েছে। তিনি জানান, জেলার পদ্মা ও গড়াই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া গেলে দ্রুত জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।