জাতীয় সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে ‘অসংসদীয়’ ভাষা ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মৃদু বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ‘মিথ্যা’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। যা সংসদীয় শিষ্টাচার ও আচরণবিধির বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
অধিবেশন চলাকালে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া একটি বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন যে, মন্ত্রী তাঁর বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং প্রসঙ্গের অবতারণা করতে গিয়ে ‘মিথ্যা’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে স্পিকার বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতাভুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর কোনো জবাব না দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
তবে পরবর্তীতে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মিথ্যা’ শব্দটিকে অসংসদীয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি স্পিকারের কাছে উক্ত শব্দটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ বা বাদ দেওয়ার জোরালো দাবি জানান। মন্ত্রীর মতে, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ‘অসত্য’ শব্দটি ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও ‘মিথ্যা’ বলা গ্রহণযোগ্য নয়। এর জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা পাল্টা যুক্তিতে জানান যে, তিনি কোনো ভুল তথ্য প্রদান করেননি, বরং একই বিষয়ের ভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন মাত্র।
বিতর্কিত এই শব্দটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে স্পিকার তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেননি। সাধারণত সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী ‘মিথ্যা’ শব্দের পরিবর্তে ‘অসত্য’ শব্দ ব্যবহারের দীর্ঘদিনের প্রচলন রয়েছে, যা অতীতেও বিভিন্ন স্পিকারের রুলিংয়ে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য যে, মুলতবি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বর্তমান সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। আগের দিন বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব পাশ কাটিয়ে একই বিষয়ে নতুন প্রস্তাব গ্রহণের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল বিরোধী দল। আগামী রবিবার এই অমীমাংসিত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে।