মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

অস্ট্রেলিয়ায় মসজিদ প্রকল্পে বাংলাদেশিদের ১০ লাখ ডলার অনুদান

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে একটি মসজিদ ও যুব উন্নয়ন কেন্দ্র নির্মাণে ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের তহবিল সংগ্রহ করে নজির সৃষ্টি করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

অস্ট্রেলিয়ায় মসজিদ প্রকল্পে বাংলাদেশিদের ১০ লাখ ডলার অনুদান
ছবিঃ সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে একটি মসজিদ ও যুব উন্নয়ন কেন্দ্র নির্মাণে ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের তহবিল সংগ্রহ করে নজির সৃষ্টি করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

শনিবার সন্ধ্যায় সিডনির পাঞ্চবোল এলাকায় গ্লেনকোয়ারি মসজিদ প্রকল্পের এই তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে উদারতা ও ধর্মীয় অনুরাগের এক বিরল দৃশ্য ফুটে ওঠে। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ সংগ্রহ প্রবাসী মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।

অনুষ্ঠানটি স্থানীয় নারী, পুরুষ ও তরুণদের উপস্থিতিতে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্লেনকোয়ারি মসজিদ ও যুব উন্নয়ন কেন্দ্রটি কেবল ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে নয়, বরং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্ব বিকাশের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা সবার সামনে তুলে ধরা হয়।

ইসলামী চিন্তাবিদ ওমর আল বান্না সাদকায়ে জারিয়ার গুরুত্ব নিয়ে আবেগপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করলে মিলনায়তনের পরিবেশে আমূল পরিবর্তন আসে। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপস্থিত প্রবাসীরা একের পর এক অনুদানের ঘোষণা দিতে থাকেন। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে স্পর্শকাতর মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন কয়েকজন প্রবাসী নারী বড় অংকের নগদ অর্থের পাশাপাশি নিজেদের গলার স্বর্ণালংকারও এই মহৎ কাজের জন্য দান করেন। ত্যাগের এই অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত দেখে উপস্থিত অনেকের চোখেই জল আসতে দেখা যায়।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রকল্পের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হলেও এক রাতেই ১০ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়ায় স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ অনেকটা প্রশস্ত হলো। আয়োজকদের মতে, সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই বিশাল অর্জনের মূল ভিত্তি। প্রবাসীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি আধুনিক ও আলোকিত ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। মূলত এই মহতী উদ্যোগ কেবল অর্থ সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঐক্য ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।