যশোরের অভয়নগর উপজেলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ইলেকট্রিক, হার্ডওয়্যার, পোলট্রি, মুদি ও ওষুধের দোকানসহ তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শুক্রবার ভোরে উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া বাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের মাত্র একদিন আগে এমন বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীরা জানান, শুক্রবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে হাফিজুর পোলট্রি ও মুদি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পার্শ্ববর্তী মেসার্স হুজাইফা ইলেকট্রিক অ্যান্ড হার্ডওয়্যার এবং শেখ ফার্মেসিতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের সম্মিলিত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হুজাইফা ইলেকট্রিক অ্যান্ড হার্ডওয়্যারের স্বত্বাধিকারী রাকিব হোসেন জানান, তার দোকানের প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। অন্যদিকে শেখ ফার্মেসির মালিক মোহাম্মদ সুজা বলেন, অর্ধেকের বেশি ওষুধ পুড়ে গেছে এবং বাকিগুলো ফায়ার সার্ভিসের পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। একইভাবে হাফিজুর পোলট্রি দোকানের মালিক হাফিজুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ঈদ উপলক্ষে কেনা লাখ টাকার মুরগি ও তিন লাখ টাকার মুদি পণ্য হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব।
বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ তৈয়েবুর রহমান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনটি দোকানের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পোলট্রি ও মুদি দোকানের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত। তবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিক মূল্যায়নে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।