বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলিতে গৃহবধূ নিহত

পাবনার সুজানগরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে এক গৃহবধূ প্রাণ হারিয়েছেন।

পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলিতে গৃহবধূ নিহত
ছবিঃ সংগৃহীত

পাবনার সুজানগরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে এক গৃহবধূ প্রাণ হারিয়েছেন।

সোমবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম চায়না খাতুন (৪০), তিনি ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সঙ্গে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। রোববার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার সকালে ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হওয়ার সময় রাজা গ্রুপের অনুসারীরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিতে ঘটনাস্থলেই চায়না খাতুন মারা যান। এ সময় আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন, যাদের সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ইসলাম প্রামাণিক অভিযোগ করেন, তার আত্মীয়কে মারধরের ঘটনার সমঝোতা করতে চাওয়ার আগেই রাজা গ্রুপের লোকজন তার লোকজনের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ ও হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই নারী। তবে অভিযুক্ত রাফিউল ইসলাম রাজা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং এটি তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। তার দাবি অনুযায়ী, চায়না খাতুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়ে থাকতে পারেন।

সুজানগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খঈম উদ্দিন গুলিতে নারী নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাবনার সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।