শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সাহায্য করবে সুইজারল্যান্ড

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড সরকার। একইসঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে দেশটি।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সাহায্য করবে সুইজারল্যান্ড
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড সরকার। একইসঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে দেশটি।

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এসব তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ, ডিজিটাল জালিয়াতি দমন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাক্ষাতের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূতও মন্ত্রীর নতুন দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে তাকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

আলোচনা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটানো। সরকার দেশে প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ করার পূর্ণ অধিকার থাকলেও জনদুর্ভোগ এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক দল দমনে পুলিশকে অতিমাত্রায় ব্যবহারের ঘটনা ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক।

রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি এ সময় পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে কৌশলগত ও কারিগরি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বর্তমান সরকারের সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে জানতে চান এবং একটি কার্যকর সংসদ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রদূত মনে করেন, সংসদ ও রাজপথে শান্তিপূর্ণ বিতর্কই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার মূল ভিত্তি।

সম্প্রতি ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬’-এর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান বিশ্বের মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশই ডিজিটাল মাধ্যমে ঘটছে। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন। রাষ্ট্রদূতও এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রদূতের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে উগ্রবাদ সামান্য মাত্রায় থাকলেও তা কখনও বড় ধরনের সন্ত্রাসবাদে রূপ নিতে পারেনি। পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে।

আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত একমত পোষণ করেন যে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাই একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সুইজারল্যান্ড তাদের সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর আলবার্তো জিওভানেত্তি উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে 'ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম' (UNODC)-এর দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ এক পৃথক বৈঠকে মিলিত হন।