পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের খাইবার জেলায় পরিচালিত এক বিশেষ গোয়েন্দা অভিযানে (আইবিও) অন্তত ২২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে দ্য ডন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, গত মঙ্গলবার ওই এলাকায় সন্ত্রাসীদের অবস্থানের গোপন সংবাদ পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা তীব্র লড়াই শেষে ‘ভারত-সমর্থিত’ নিষিদ্ধ গোষ্ঠী ফিতনা আল-খাওয়ারিজের ২২ জন সদস্য নিহত হয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার এড়াতে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ শুরু করলে ১০ বছর বয়সী এক শিশু প্রাণ হারায়। লড়াই শেষে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় আর কোনো সন্ত্রাসী আত্মগোপন করে আছে কি না, তা নিশ্চিতে চিরুনি অভিযান বা ‘স্যানিটাইজেশন অপারেশন’ চলমান রয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী পুনরায় স্পষ্ট করেছে যে, ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ নীতির অধীনে দেশজুড়ে সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রম পূর্ণ শক্তিতে অব্যাহত থাকবে। বিদেশি মদদপুষ্ট যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস নির্মূল করতে পাকিস্তান তার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করবে। নিরীহ নাগরিকদের এই আত্মত্যাগ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান ইন্সটিটিউট ফর পিস স্টাডিজের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত প্রাণহানির হারও বার্ষিক ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিকে ইঙ্গিত করে।