বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পাম্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারি মালিকদের

দেশজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর পর ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা জোরদার ও সরবরাহ বাড়ানোর দাবি তুলেছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। তাদের অভিযোগ, সরকার একদিকে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকার কথা বলছে, আবার অন্যদিকে রেশনিং করে তেল দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে—এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও উত্তেজনা বাড়ছে।

পাম্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারি মালিকদের


দেশজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর পর ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা জোরদার ও সরবরাহ বাড়ানোর দাবি তুলেছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। তাদের অভিযোগ, সরকার একদিকে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকার কথা বলছে, আবার অন্যদিকে রেশনিং করে তেল দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে—এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও উত্তেজনা বাড়ছে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর সিদ্বেশ্বরী সার্কুলার রোডের একটি হোটেলে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার কারণে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। পাম্প মালিকরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করছেন। তবে একদিকে পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলা এবং অন্যদিকে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে তেল সরবরাহের নির্দেশ দেওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়া এবং ‘তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে’—এমন প্রচারের কারণে অনেকেই পাম্পে ভিড় করছেন। অনেকে আবার গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করে রাখার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।

পাম্পে হামলা ও কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাম্পগুলোতে উত্তেজনা বাড়ছে এবং কোথাও কোথাও হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সংগঠনের দাবি, সম্প্রতি সুনামগঞ্জে এক পাম্প কর্মচারীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

পাম্প মালিকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। আবার ২০২৫ সালের বিক্রির তুলনায় ১০ শতাংশ কম সরবরাহ দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও বাস্তবে তার চেয়েও বেশি কম দেওয়া হচ্ছে। অথচ এ সময়ে দেশে যানবাহনের সংখ্যা ও তেলের ব্যবহার প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, ফলে ঘাটতি আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

রাইড শেয়ার মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার নিয়ম নিয়ে আপত্তি

সংবাদ সম্মেলনে রাইড শেয়ার মোটরসাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ৫ লিটার অকটেন দেওয়ার সরকারি নির্দেশনার সমালোচনা করা হয়। পাম্প মালিকদের মতে, কাগজপত্র যাচাই করতে সময় লাগবে, এতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।

মোবাইল কোর্ট নিয়ে অসন্তোষ

পাম্প মালিকরা অভিযোগ করেন, মনিটরিংয়ের নামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে অভিযান চালানো হলে তাদের সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে। তাদের মতে, কোম্পানি থেকে সরবরাহ করা তেলের পরিমাণ পাম্পের ভূগর্ভস্থ ট্যাংক এবং ডিসপেনসারের মিটার রিডিং যাচাই করলেই অনিয়ম আছে কি না বোঝা সম্ভব।

কৃষি ও জেনারেটর খাতে জটিলতা

সংগঠনটি জানায়, শহরের বহুতল ভবনের জেনারেটর কিংবা গ্রামাঞ্চলের সেচ পাম্পের জন্য আলাদা কোনো নির্দেশনা না থাকায় পাম্পগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক কৃষক সেচের জন্য প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না বলেও তারা দাবি করেন।

সরকারের কাছে আট দফা দাবি

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে আট দফা দাবি জানিয়েছে পাম্প মালিকদের সংগঠন। দাবিগুলো হলো—

১. প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশের পাশাপাশি সেনা সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২. মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহে কোনো ধরনের বিভাজন না রাখা।
৩. বড় ও ছোট সব পাম্পে সমানভাবে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা।
৪. বিপণন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে তেল সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি করা।
৫. এজেন্সি, পিক পয়েন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে তেল সরবরাহ চালু করা।
৬. মনিটরিংয়ের নামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেয় করা বন্ধ করা।
৭. কোনো পাম্প বা নৌযানে অবৈধ মজুত ধরা পড়লে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
৮. তেল ডিপোগুলোতে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করা।

সংগঠনের সভাপতি সতর্ক করে বলেন, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করে পাম্প মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে তারা পাম্প পরিচালনা বন্ধ রাখার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারেন। তখন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে।