মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পেপ্যাল আসছে দেশে, কার্ড পাবেন ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার

দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতকে আরও গতিশীল করতে বহুল আকাঙ্ক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট মাধ্যম ‘পেপ্যাল’ বাংলাদেশে চালুর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার।

পেপ্যাল আসছে দেশে, কার্ড পাবেন ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতকে আরও গতিশীল করতে বহুল আকাঙ্ক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট মাধ্যম ‘পেপ্যাল’ বাংলাদেশে চালুর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তথ্য-প্রযুক্তির এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে আইডি কার্ড প্রদান এবং হাজার হাজার তরুণকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার।

সংসদীয় অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বিভিন্ন সংস্থা কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর আগামী পাঁচ বছরে এক হাজার নতুন ফ্রিল্যান্সার তৈরির পাশাপাশি দুই লাখ পেশাজীবীকে আইডি কার্ড প্রদান করবে। ইতিমধ্যে সাড়ে সাত হাজার ফ্রিল্যান্সারকে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো উন্নত প্রযুক্তিতে ২৪০০ জন তরুণকে প্রশিক্ষিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমানে ৮৩টি সেবা অনলাইন গেটওয়ের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে এবং আগামী এক বছরে আরও ১০টি নতুন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হাই-টেক ও সফটওয়্যার পার্কগুলোকে কার্যকর করা এবং বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুর জন্য ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি সফল হলে ফ্রিল্যান্সারদের অর্থ লেনদেনের দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১০০০ জন শিক্ষার্থীকে আইটিইই (ITEE) প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার চাকরিপ্রত্যাশীকে ডাটা অ্যানালাইটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি ও পাইথন প্রোগ্রামিংয়ের মতো সময়োপযোগী বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী ডিপ্লোমা প্রদান করা হচ্ছে। কেবল তরুণ সমাজ নয়, প্রান্তিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৭০০ মানুষকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের পেশাদার দক্ষতা বৃদ্ধিতে ওয়াইফাই (WIFI) প্রকল্পের আওতায় বিশেষ প্রশিক্ষণের কার্যক্রম ইতিমধ্যে ফলপ্রসূভাবে শুরু হয়েছে। সরকার মনে করে, এই বহুমুখী উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক তথ্য-প্রযুক্তি বাজারে একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।