মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

“পেশাদার সাংবাদিকরা ‘বগল সম্পাদকদের’ কারণে কোণঠাসা হচ্ছেন’’

সংবাদমাধ্যম ও গণতন্ত্র যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ—এই চিরন্তন সত্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, গণমাধ্যমই সরকারকে সমাজের গভীরতম চিত্র দেখার সুযোগ করে দেয়। তিনি পেশাদার সাংবাদিকদের কাজের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বলেন, পেশাদার সাংবাদিকরা ‘বগল সম্পাদকদের’ কারণে কোণঠাসা হচ্ছেন।

“পেশাদার সাংবাদিকরা ‘বগল সম্পাদকদের’ কারণে কোণঠাসা হচ্ছেন’’
ছবি: সংগৃহীত

সংবাদমাধ্যম ও গণতন্ত্র যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ—এই চিরন্তন সত্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, গণমাধ্যমই সরকারকে সমাজের গভীরতম চিত্র দেখার সুযোগ করে দেয়। তিনি পেশাদার সাংবাদিকদের কাজের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বলেন, পেশাদার সাংবাদিকরা ‘বগল সম্পাদকদের’ কারণে কোণঠাসা হচ্ছেন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর বার্ষিক সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণতন্ত্র রক্ষায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অনিবার্য

কাদের গনি চৌধুরী তার বক্তব্যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি রাষ্ট্রকে সঠিক পথে রাখতে এবং স্বৈরাচারের উত্থান রুখতে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া জরুরি। তার মতে, গণমাধ্যম যখন গঠনমূলক সমালোচনা করে, তখন সরকার ও বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের ভুল সংশোধনের সুযোগ পায়।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "মিডিয়া সরকারসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমালোচনা করে তাদের আরো সংশোধনের সুযোগ করে দেয়। যে সমাজে মানুষ নিজের মনের কথা নি:শঙ্কচিত্তে উচ্চারণ করতে পারে না, সে সমাজে বিবেকের দিশা ও হারিয়ে যায়। তাই বাংলাদেশের সংবিধান একটি পেশাকে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার অবাধ সুযোগ দিয়েছে। সাংবাদিকরা ক্ষমতাকে চোখে চোখে রাখেন। বলতে দ্বিধা নেই এর কোনটিই এখন হচ্ছে না।"

সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি ও বর্তমান সংকট

সাংবাদিকতাকে ‘সত্যের আরাধনা’ হিসেবে অভিহিত করে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, একজন সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব হলো সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা এবং সত্য রক্ষা করা। সাহসিকতা, সত্যনিষ্ঠা এবং আপসহীনতা—এই গুণগুলো সাংবাদিকের ভূষণ হওয়া উচিত। তবে বাংলাদেশের গণমাধ্যম বর্তমানে তার জনমুখী চরিত্র হারিয়ে ফেলেছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিগত সরকারের আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের গণমাধ্যম তার গণমুখী চরিত্রটা হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে পতিত সরকারের সময় বাংলাদেশের মিডিয়ায় সাংবাদিকতা বলতে কিছুই ছিল না। সে সময় আমাদের সাংবাদিকদের অনেকে দলদাসে পরিণত হয়েছিলেন। সম্পাদকদের কেউ কেউ অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন।"

তিনি আরও যোগ করেন যে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক সাংবাদিককে পালিয়ে যেতে হয়েছে বা গ্রেফতার হতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অস্বাভাবিক একটি পরিস্থিতি।

‘বগল সম্পাদক’ ও তথ্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক

অনুষ্ঠানে কাদের গনি চৌধুরী অপসাংবাদিকতা ও ‘হলুদ সাংবাদিকতার’ তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে একই প্রেস থেকে নাম পরিবর্তন করে শত শত মানহীন পত্রিকা বের হচ্ছে। তথাকথিত ‘বগল সম্পাদকদের’ কারণে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "কে সাংবাদিক আর কে সাংঘাতিক এটা ঠিক না হওয়ায় জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাংবাদিক নামধারী সাংঘাতিকদের দ্বারা ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি অফিসাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গণমাধ্যমের মর্যাদা ফিরে পেতে চাইলে এ সব তথ্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।"

তিনি সাংবাদিকদের ‘ওয়াচডগ’ বা সমাজের অতন্ত্র প্রহরী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন যাতে কেউ ‘প্যাটডগ’ বা পোষা কুকুরে পরিণত না হন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের ‘সোশ্যাল ডক্টর’ বা সামাজিক চিকিৎসক হিসেবে গড়ে ওঠার পরামর্শ দেন।

সুশাসনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা

অনুষ্ঠানে ওবায়দুর রহমান শাহীন সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রজাতন্ত্রের সুশাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম প্রহরীর ভূমিকা পালন করে। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমেই রাষ্ট্র উন্নয়নের পথে ধাবিত হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর এই সভায় বক্তারা গণমাধ্যমের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার এবং অপসাংবাদিকতা নির্মূল করে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সাংবাদিকদের আপসহীন হওয়ার তাগিদ দেন।