বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সামাজিক মর্যাদা, সার্বিক নিরাপত্তা ও অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে রাষ্ট্রীয় আইনি কাঠামোর পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবীণরা জীবনের শেষভাগে এসে অনেক সময় ভীষণ অসহায়ত্বের মুখোমুখি হন। তাই তাদের সুনির্দিষ্ট অধিকার নিশ্চিত করতে কেবল রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে পরিবার এবং সমাজকেও সমানভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধ সচেতনতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এই সভার আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রবীণদের অবহেলা বা নানাভাবে হেনস্থা করার মতো নেতিবাচক ঘটনাগুলো শুধু কঠোর আইন প্রয়োগ করে সমাজ থেকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের জাগরণ ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। তবেই প্রবীণদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে কিছুটা সহজ করতে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের রাষ্ট্রীয় বাজেটে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য রেলপথে যাতায়াত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে। একই সাথে আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম মেট্রোরেলে প্রবীণদের জন্য ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়ের বিশেষ সুবিধা চালু করা হয়েছে। এছাড়া ৯০ বছর বা তার ঊর্ধ্বের প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসিক এক হাজার টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যা তাদের সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।