রবিবার, 25 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘জাস্টিস কার্ড’ চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুশাসন ও সঠিক বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ‘জাস্টিস কার্ড’ চালুর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘জাস্টিস কার্ড’ চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুশাসন ও সঠিক বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ‘জাস্টিস কার্ড’ চালুর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্ড বা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারটিই সবচেয়ে বড় দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ২০ মে বুধবার রাতে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ গেট সংলগ্ন এলাকায় দলটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।

উক্ত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থক সমবেত হন।

বক্তব্য চলাকালীন সাম্প্রতিক সময়ে সাত বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা এটি ছিল না যে স্বাধীন দেশে একটি অবুঝ শিশুকে এমন পাশবিকতার মুখোমুখি হতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবারটি যদি সঠিক বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় ভেঙে পড়ে, তবে তা পুরো রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় আজ সাধারণ মানুষ সর্বত্র এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। জনগণ কেবল ক্ষমতার হাতবদল দেখতে চায়নি, বরং তারা সমাজ থেকে সব ধরনের অপরাধের স্থায়ী অবসান ও সুশাসন দেখতে চেয়েছিল।

সরকারের বিদ্যমান বিভিন্ন কার্ড সুবিধার প্রসঙ্গ টেনে এই জনপ্রতিনিধি বলেন, জনগণকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড কিংবা পেট্রোল কার্ডের মতো বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি কার্যকর বিচারিক নিশ্চয়তা। এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার যেখানে সাধারণ মানুষ কোনো হয়রানি ছাড়া দ্রুত সময়ে আইনি প্রতিকার পাবে।

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন স্তরে চলমান চাঁদাবাজির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, কেবল চাঁদাবাজের মুখ চেনা পরিবর্তন সাধারণ মানুষ চায়নি, বরং সমাজ থেকে চাঁদাবাজির সংস্কৃতি সম্পূর্ণ নির্মূল করাই ছিল মূল লক্ষ্য। মানুষ পরিবর্তনের আশায় রায় দিলেও তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

সরকারের নীতিগত অবস্থানের সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ সংগঠক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনের পূর্বে এক ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও জয়ী হওয়ার পর সরকার তার পূর্ব অবস্থান থেকে সরে এসেছে। দেশে যদি এভাবে দিনের পর দিন বিচারহীনতার পরিবেশ বজায় থাকে এবং অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, তবে সচেতন সাধারণ জনগণ একদিন এই সরকারকে চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে মাঠ থেকে লাল কার্ড দেখিয়ে দেবে।