ইরানের পক্ষ থেকে আসা নতুন শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান যতক্ষণ পর্যন্ত স্থায়ী পরমাণু চুক্তিতে সম্মত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
অন্যদিকে, বর্তমান যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতির মধ্যেই শত্রুপক্ষের সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের কাজ চলছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তারা সতর্ক করেছে যে, নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ট্রাম্পের একতরফাভাবে ঘোষিত একটি ‘অনির্দিষ্টকালীন’ যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের কড়া পাহারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সোমবার হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব তারা পেয়েছে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবটিতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনার কথা বলা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে যথেষ্ট মনে করছেন না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ না করা পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকবে। তিনি এই নৌ-অবরোধকে বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কার্যকরী হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের মতে, তেল রপ্তানি করতে না পারায় ইরানের মজুত ব্যবস্থা ও পাইপলাইনগুলো এখন বিপর্যয়ের মুখে এবং দেশটি অর্থনৈতিকভাবে ‘দমবন্ধ’ হওয়া পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আলোচনার জন্য ইরান এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ পরমাণু চুক্তি ছাড়া ওয়াশিংটন এক চুলও নড়বে না। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এখন ‘আত্মসমর্পণের’ সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনার এই অচলাবস্থা ভাঙতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ওপর একটি ‘স্বল্পমেয়াদী অথচ শক্তিশালী’ হামলার পরিকল্পনা সাজিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করা। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এর কড়া জবাব দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এই যুদ্ধবিরতির সময়টিকে কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর তালিকা হালনাগাদ করছেন। পুনরায় আক্রমণ হলে ইরান তার সম্পূর্ণ নতুন সামরিক রণকৌশল প্রদর্শন করবে বলে তিনি হুঙ্কার দেন।
এদিকে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন। বিরোধী দল এই সংঘাতকে একটি ‘কৌশলগত ভুল’ এবং অন্তহীন এক ‘চোরাবালি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি এবং তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার দায়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করা হয় সেখানে।
পেন্টাগনের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু এবং কয়েকশ আহতের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এখন মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন এক জটিল মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।