বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে পাওনা টাকা নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠক রূপ নেয় সহিংসতায়। এ ঘটনায় পুলিশের সামনেই খোরশেদ আলম সিকদার (৫৭) নামে এক ট্যানারি শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
রোববার (২৩ মার্চ) বিকেলে মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার চরহোগলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দিনু মিয়া।
নিহত খোরশেদ আলম সিকদার চরহোগলা এলাকার বাসিন্দা এবং ঢাকায় ট্যানারি শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় আহতরা হলেন—তোতা সিকদার, রাকিব সিকদার, মোকেছদ সিকদার ও টুম্পা বেগম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্মাণকাজের বকেয়া অর্থ নিয়ে খোরশেদের সঙ্গে বিরোধ ছিল ঠিকাদার ও রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করা বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরের। এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য রোববার বিকেল ৩টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তখন জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা খোরশেদকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় খোরশেদের পরিবারের আরও চার সদস্য আহত হন।
ঘটনার পর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ রিয়াজ শাহিন লিটন এবং সদস্য সচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দিনু মিয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২২ বছর আগের পাওনা টাকা নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকের সময় হাতাহাতির ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।