শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

রায়পুরায় মানববন্ধন ঘিরে সংঘর্ষ, বিএনপির ৭ নেতাকর্মী আহত

নরসিংদীর রায়পুরায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হোসেন আলীকে আদালতে হাজিরার সময় আটকের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির সাত নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার প্রতিবাদে পরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

রায়পুরায় মানববন্ধন ঘিরে সংঘর্ষ, বিএনপির ৭ নেতাকর্মী আহত

নরসিংদীর রায়পুরায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হোসেন আলীকে আদালতে হাজিরার সময় আটকের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির সাত নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার প্রতিবাদে পরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়া রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভুইয়ার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ফারুক হোসেন আলীর সমর্থকেরা মানববন্ধন করেন। পরে দুপুরে চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

আহতরা হলেন—রায়পুরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন, রায়পুরা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন আমু, উপজেলা যুবদল সদস্য রাসেল ভূইয়া, উপজেলা জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম পলাশ, কাচারিকান্দি এলাকার রিমন আহম্মদ এবং ফকিরেরচর এলাকার জাহাঙ্গীর আলম।

আহতদের রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমির হোসেন আমুকে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকার একটি হাসপাতালে পাঠান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এমপি রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলীর সমর্থক নারী-পুরুষেরা পরিষদের সামনে মানববন্ধন করেন। এ সময় রায়পুরা উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে গেলে মানববন্ধনকারীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এরপর বিএনপির নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের বাড়ির দিকে রওনা হন। সেখানে চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং কয়েকজনকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলীর বাড়ি এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের বাড়ির গেট ও ভেতরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। চেয়ারম্যানের বাড়ি অতিক্রম করার সময় লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মোটরসাইকেলের বহরে হামলা করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভুইয়া অভিযোগ করে বলেন,আ: লীগ নেতা ফারুক চেয়ারম্যানকে আদালত হাজিরা দিতে গেলে আদালত কারাগারে প্রেরনের পর তার অনুসারীরা হাসিমপুর বাজারে মানববন্ধন করে। এ সময় আমরা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ছিলাম। পরে খবর পাই আমার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়েছে। রায়পুরা সদর থেকে নেতারা আসার পর তাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

রায়পুরা থানার তদন্ত কর্মকর্তা টিএম ফরিদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ফারুক চেয়ারম্যানকে আদালত কারাগারে পাঠানোর পর তার অনুসারীরা মানববন্ধনের চেষ্টা করে। বিষয়টি কেন্দ্র করে বিএনপির নেতারা মামুদপুর এলাকায় গেলে চেয়ারম্যানের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) নরসিংদী আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে যান রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলী। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনার পরই তাঁর সমর্থকেরা আটকের প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করেন।