শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

রাজশাহীর আমের প্রশংসা করে কোল্ড চেইন বাড়ানোর পরামর্শ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত ও অন্যতম বৃহৎ আমের বাজার রাজশাহীর বানেশ্বর হাট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে গিয়ে বিভিন্ন আড়ত ও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রগুলো প্রত্যক্ষ করেন।

রাজশাহীর আমের প্রশংসা করে কোল্ড চেইন বাড়ানোর পরামর্শ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
ছবি : সংগৃহীত
উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত ও অন্যতম বৃহৎ আমের বাজার রাজশাহীর বানেশ্বর হাট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে গিয়ে বিভিন্ন আড়ত ও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রগুলো প্রত্যক্ষ করেন।

পরিদর্শনকালে মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিনিধি বাজারের বেচাকেনা পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাজারে প্রাপ্ত নানা জাতের আমের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন। তিনি আম চাষি ও আড়তদারদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং বেশ কয়েক প্রজাতির আমের স্বাদ আস্বাদন করেন।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, দেশের প্রধান এই কূটনীতিক হিসেবে এটিই তার প্রথম রাজশাহী যাত্রা। এর আগে বিগত ২০২০ সালেও তিনি একবার এই অঞ্চলে এসেছিলেন, তবে এবার আমের ভরা মৌসুমে আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল এখানকার সুস্বাদু আমের আসল স্বাদ নেওয়া। এই হাটে আসতে পেরে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, তার নিজের জন্মস্থান আমেরিকার একটি কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় যেখানে ফসল উৎপাদিত হয়, সরাসরি সেই উৎসস্থলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা সবসময়ই অনন্য। এর ফলে সবচেয়ে সতেজ ও সেরা মানের কৃষিপণ্য দেখার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়।

আমেরিকার বাজারে আমের চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্কিন নাগরিকরা আম খুবই পছন্দ করেন, তবে সেখানে সাধারণত প্রক্রিয়াজাত করা হিমায়িত আম পাওয়া যায় যা দিয়ে বিভিন্ন পানীয় তৈরি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে আম মিললেও রাজশাহীর মতো এমন গাছপাকা তাজা আম সেখানে পাওয়া অসম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের এই সুস্বাদু ফলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আম সংরক্ষণের জন্য উন্নত হিমাগার বা কোল্ড চেইন ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়ানো দরকার। বছরজুড়ে আমের সরবরাহ ঠিক রাখতে এবং বিদেশে পাঠানোর জন্য হিমায়িত পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকরী। তাই রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে দেশের কোল্ড চেইন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি।

এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই আকস্মিক উপস্থিতিতে হাটের ব্যবসায়ী ও আম চাষিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন একজন ব্যক্তিত্বের আগমনে রাজশাহীর আম বিশ্বদরবারে নতুন করে পরিচিতি পাবে। কূটনীতিকদের এমন সফর দেশের কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির পথকে আরও সুগম করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রদূতের সাথে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা চার্লস বেসনার্ডসহ উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারাও এ সময় তাদের সাথে ছিলেন।