সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমাতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শুক্রবার সিউল জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সামরিক যোগাযোগের চ্যানেলগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা করতে পিয়ংইয়ংকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতির উপমন্ত্রী কিম হং-চোয়েল বলেন, আলোচনার লক্ষ্য হবে স্থলভিত্তিক সামরিক সীমারেখার সঠিক অবস্থান যৌথভাবে নির্ধারণ করা, সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালুর উপায় খুঁজে বের করা এবং সীমান্ত এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ ঠেকানো।
তিনি জানান, আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান নিয়ে পানমুনজমে বৈঠক হতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে অবস্থিত এই প্রতীকী গ্রামেই কোরীয় যুদ্ধের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। সেখানে দুই দেশের সেনারা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন।
কিম হং-চোয়েল আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সুযোগও খোলা রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করছে সিউল।
তবে পিয়ংইয়ং এই প্রস্তাবে সাড়া দেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন দক্ষিণ কোরিয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। গত কয়েক বছরে তিনি প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা ও যৌথ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন।
এদিকে সীমান্তের কাছাকাছি সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে চলেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতার প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বুধবার জানিয়েছেন, নতুন সামরিক ইউনিটগুলোকে সীমান্তের কাছে গোলাবর্ষণের অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত ও সামরিকভাবে শক্তিশালী এই সীমান্তে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে। সেখানে মাইন, কাঁটাতারের বেড়া, বিশেষ সড়ক এবং ট্যাংক চলাচল ঠেকানোর দেয়াল তৈরি করা হয়েছে।
গত মাসে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিক অঞ্চল বা ডিমিলিটারাইজড জোনের (ডিএমজেড) পশ্চিম অংশে সামরিক সীমারেখার কাছে বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার বলেছে, কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে পরিস্থিতি এভাবে চলতে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়বে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, গত বছরও আলোচনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মায়ুং উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় কিম ইয়ো জং প্রস্তাবটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি একে ‘চূড়ান্ত নাটকবাজি’ বলে অভিহিত করেছেন।