বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

রাজশাহীর পশুর হাট: অর্ধেক দামে ইজারা, গোপন সমঝোতা বিএনপি ও জামায়াতের

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নিয়ন্ত্রণাধীন ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট 'সিটি হাট' ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে এক গোপন সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক এই আঁতাতের ফলে গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক মূল্যে হাটটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যার ফলে সিটি করপোরেশন প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিশাল রাজস্ব হারাতে বসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রাজশাহীর পশুর হাট: অর্ধেক দামে ইজারা, গোপন সমঝোতা বিএনপি ও জামায়াতের
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নিয়ন্ত্রণাধীন ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট 'সিটি হাট' ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে এক গোপন সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক এই আঁতাতের ফলে গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক মূল্যে হাটটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যার ফলে সিটি করপোরেশন প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিশাল রাজস্ব হারাতে বসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বাংলা ১৪৩২ সনে এই হাটটি ১৪ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার স্থানীয় রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় না গিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে মাত্র ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা দর প্রস্তাব করেছে। এই সিন্ডিকেটে রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং জামায়াত সমর্থিত শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতারা যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর মোট ১৩টি শিডিউল বিক্রি হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫টি জমা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, শিডিউল জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগে নগরীর ষষ্ঠীতলায় এক বিএনপি নেতার কার্যালয়ে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই নিজেদের মধ্যে দর ভাগাভাগি করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যাতে অন্য কেউ প্রতিযোগিতায় আসতে না পারে। যদিও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা এই বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছেন, তবে সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য ও ব্যবসায়ী শওকত আলী সমঝোতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে, গত বছরের তুলনায় অর্ধেক দামে হাট ইজারা দেওয়ার এই প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল জানান, এই সিন্ডিকেটের কারণে সিটি করপোরেশন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে, যা সরাসরি শহরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় ইজারা দেওয়ার দাবি জানান।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ইজারা প্রক্রিয়াটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তৎকালীন প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ জানিয়েছেন, তিন বছরের গড় আয়ের ওপর ভিত্তি করে ইজারা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বর্তমান প্রশাসক। তবে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক এই সমঝোতার ফলে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।