মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা খুনের ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মস্পর্শী হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতেই হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, নারী কিংবা শিশুদের ওপর এ ধরনের কোনো নির্যাতন বর্তমান সরকার একেবারেই বরদাশত করবে না। আগামী এক মাসের মধ্যে রামিসার খুনিকে সর্বোচ্চ শাস্তি তথা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ, যেন ভবিষ্যতে অন্য কেউ এভাবে নারী ও শিশুদের ওপর হাত তোলার সাহস না দেখায়।
সরকার প্রধান উল্লেখ করেন, অপরাধীদের দণ্ড দেওয়ার জন্য দেশে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। অথচ কিছু মহল পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথকে ব্যাহত করছে।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে কানহর ধরার খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করার পর এক বিশাল জনসমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, গত ১২ তারিখের নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ায় একটি পক্ষের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই ক্ষোভ থেকেই তারা এ ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। কৃষকদের সংকট দূর করা, খাল খনন কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলো নিয়ে কথা না বলে তারা কেবল দেশে একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে। এই ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সাধারণ মানুষ ও কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের সঙ্গে ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত শক্তির যোগসাজশ রয়েছে।
উক্ত জনসভার প্রারম্ভে বক্তব্য দেন তৎকালীন যুবদলের স্থানীয় সভাপতি শাজাহান। ১৯৭৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান যখন এই খালটি খনন কাজের উদ্বোধন করতে এসেছিলেন, তখনও তিনি উপস্থিত ছিলেন। বহু বছর পর একই স্থানে একই খালের পুনঃখনন কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শরিক হতে পেরে তিনি রাষ্ট্রনায়কের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালের দরিরামপুর নজরুল মঞ্চের দিকে যাত্রা করেন। বিকেল ৪টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে কবির স্মৃতিবিজড়িত দরিরামপুর নজরুল মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।