গাইবান্ধার বাসিন্দা হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইডির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে সংঘটিত সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গত ১২ জুলাই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকা থেকে হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এছাড়া, তিনি এর আগে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলেও সিআইডির দাবি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি তিনি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ফিরে একটি স্থানীয় মন্দির কমিটির সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানে একটি বড় রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় বিষয়টি এলাকায় আলোচনার জন্ম দেয়। পরে স্থানীয় ইমাম-ওলামা পরিষদ এর বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করলে ওই প্রকল্প স্থগিত হয়ে যায়।
এদিকে, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর পলাশবাড়ীতে স্থানীয় মুসল্লিরা ওই বিগ্রহ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
সিআইডির ভাষ্য, বৈধ আয়ের কোনো উৎসের তথ্য না থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাবে মোট ৯ দশমিক ৩৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে। প্রায় একই পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে, যা সন্দেহজনক বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এর আগে ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়, মানিলন্ডারিং এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে এনএসআই ও র্যাবের যৌথ অভিযানে হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলাম এবং ইমরান মেহেদী হাসান নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।