ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ওয়াকআউট ও প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদের অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সংসদ ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিরোধী দলের এই অবস্থানের যৌক্তিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ ও ৬ আগস্ট এই রাষ্ট্রপতির সঙ্গেই বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা দফায় দফায় আলোচনা করেছিলেন। তাঁর উপস্থিতিতেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা শপথ গ্রহণ করেন। এমনকি সে সময়কার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা ব্যক্তিরাই এখন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্ন তোলেন, যে রাষ্ট্রপতির অধীনে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো, এখন কেন তাঁর বৈধতা নিয়ে বিরোধিতা করা হচ্ছে? এই স্ববিরোধিতার জবাব বিরোধী দলকেই দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অবশ্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াকআউটকে গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক অংশ হিসেবেও অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অধিবেশন বর্জন বা ওয়াকআউট করার বিষয়টি একটি প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি। গণতান্ত্রিক চর্চায় এটি নতুন কিছু নয় এবং বিরোধী দল তাদের রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে এটি করতেই পারে।
এর আগে বিকেলের অধিবেশনে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ যখন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, তখন জামায়াতের সংসদ সদস্যরা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে হট্টগোল শুরু করেন। ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’—এমন স্লোগান দিয়ে তারা কক্ষ ত্যাগ করলে বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতি তাঁর নির্ধারিত বক্তব্য পাঠ করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপিকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের মহান আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।