রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসের (অক্টোবর) মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রশাসক ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। পরে এফবিসিসিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়।
বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি বিষয় দ্রুত সমাধানের জন্য প্রায় চার হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী কাজ করছেন।
এ সময় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। আলেক্সান্দার খোজিন জানান, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াতে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
এ ছাড়া মস্কোতে রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, নভেম্বরের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় দুই দেশের আন্তসরকার কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
তিনি জানান, দুই দেশের উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতেই মস্কোতে ওই ব্যবসায়িক ফোরাম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক প্রোফাইল বিবেচনায় নিয়ে সেখানে সরাসরি বিটুবি বৈঠকসহ বিভিন্ন সেশনের আয়োজন করা হবে।
বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় অন্যান্য খাতেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং সিরামিকের মতো পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেন। পাশাপাশি রাশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে মানবসম্পদ রপ্তানির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
জবাবে রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয় পর্যালোচনা করছে। রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতা ও চামড়াজাত পণ্যেরও দেশটিতে ভালো চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি।
আলেক্সান্দার খোজিন আরও বলেন, কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ ও সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দিয়েছে।