শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সাত বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্যের গলায় দড়ি বেঁধে চলছে প্রশাসনের মেলা, শুকানো হচ্ছে লুঙ্গিও

টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্যকে ঘিরে চরম অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। বিসিক আয়োজিত একটি মেলার স্টল নির্মাণে ভাস্কর্যের গলায় দড়ি বেঁধে কাঠ ঝোলানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা।

সাত বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্যের গলায় দড়ি বেঁধে চলছে প্রশাসনের মেলা, শুকানো হচ্ছে লুঙ্গিও
টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বিসিকের মেলায় নির্মাণ করা স্টলের দড়ি বীরশ্রেষ্ঠদের গলায় বেঁধে দেওয়া হয়েছে । ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্যকে ঘিরে চরম অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। বিসিক আয়োজিত একটি মেলার স্টল নির্মাণে ভাস্কর্যের গলায় দড়ি বেঁধে কাঠ ঝোলানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা।

রোববার (৩ মে) রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, উদ্যানে স্থাপিত বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্যের সামনে নির্মিত স্টলগুলোর দড়ি সরাসরি ভাস্কর্যের গলায় বেঁধে রাখা হয়েছে। সেই দড়িতে কাপড় ঝোলানোও দেখা যায়, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য এই মেলার আয়োজন করে। শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানজুড়ে স্টল নির্মাণের পাশাপাশি ভাস্কর্যের সামনেও স্টল বসানো হয়। গত ২৪ এপ্রিল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মেলার উদ্বোধন করেন।

মেলার শেষ দিনে তোলা ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

আল আমীন খান নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘বীরের গলায় মেলার দড়ি! এ লজ্জা কি শুধু টাঙ্গাইলবাসীর?’

উদীচী টাঙ্গাইল জেলা সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর নাসিমুল ইসলাম লিখেছেন, ‘ছবিতে দেখুন বীরশ্রেষ্ঠদের গলায় বাঁধা মেলার স্টলের দড়ি। সেই দড়িতে ঝুলছে কাপড়। পাশে ময়লার স্তূপ। এটা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, এটা ইতিহাসের অপমান। যাঁরা জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করলেন, তাঁদের গলায় আমরা দড়ি বাঁধছি।’

ঘটনাটি সামনে আসার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।

এ বিষয়ে বিসিক টাঙ্গাইল জেলার সহকারী মহাব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগম বলেন, মেলার নবম দিনে কে বা কারা এমন কাজ করেছে তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে দড়িগুলো খুলে ফেলা হয়েছে বলে তিনি জানান।