শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সাভারে লাশের মিছিল, সিরিয়াল কিলার সন্দেহে সম্রাট আটক

ঢাকার সাভারে ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড এলাকাজুড়ে ভয় ও চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে। কয়েক মাস ধরে সাভার মডেল থানা ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পর অবশেষে একটি সিরিয়াল কিলারের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

সাভারে লাশের মিছিল, সিরিয়াল কিলার সন্দেহে সম্রাট আটক

ঢাকার সাভারে ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড এলাকাজুড়ে ভয় ও চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে। কয়েক মাস ধরে সাভার মডেল থানা ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পর অবশেষে একটি সিরিয়াল কিলারের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, থানার আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে ঘোরাফেরা করা সম্রাট নামে এক ভবঘুরেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অন্তত ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর গত বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে একই স্থান থেকে গত ১৯ ডিসেম্বর আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি রোববার সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবন থেকে আগুনে পোড়া অবস্থায় দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

একই এলাকার আশপাশে ধারাবাহিকভাবে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় পুলিশ তদন্তে গতি বাড়ায়। তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সম্রাটকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিকভাবে তার বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ঘটনাগুলোর মিল পাওয়া যাচ্ছে।

সাভার মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও নৃশংস। লাশ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করি। ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অধিকতর তদন্ত শেষে আর কেউ এ নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত আছে কি না তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এদিকে একের পর এক হত্যার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।