শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাবের ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা

গভীর রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর বুলডোজার দিয়ে ক্যাম্পের দেয়াল ও বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে অন্তত তিনটি স্থানে রাস্তা ও কালভার্ট কেটে ফেলা হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাবের ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা

গভীর রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর বুলডোজার দিয়ে ক্যাম্পের দেয়াল ও বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে অন্তত তিনটি স্থানে রাস্তা ও কালভার্ট কেটে ফেলা হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে আলীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

র‍্যাব জানিয়েছে, নানা বাধা ও রাস্তা বিচ্ছিন্ন করার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। র‍্যাবের দাবি, হামলার সঙ্গে ‘সন্ত্রাসী’ ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা জড়িত।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পরিকল্পিতভাবে ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা র‍্যাব ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, সন্ত্রাসীরা ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে র‍্যাব সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালান।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা যাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়। তবে সব বাধা অতিক্রম করে বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী পালিয়ে গেলেও কয়েকজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

র‍্যাব কর্মকর্তা কামাল হোসেন নিজের ফেসবুক আইডিতে অভিযানের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সোমবার ভোরে আপলোড করা দুটি ভিডিওতে জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ও কালভার্ট কেটে ফেলার দৃশ্য দেখা যায়।

ভিডিওতে কামাল হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য এখানে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন স্থানে কালভার্ট এবং রাস্তা কেটে দিয়েছে। যাতে আমাদের গাড়িগুলো ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। ওরা মনে করেছে যে ওদের কৌশলের কাছে আমরা পরাজিত হয়ে যাব। কিন্তু আমরা যে ওদের থেকে আরও বেশি কৌশলী, সেটা ওরা বুঝতে পারেনি।’

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, রাস্তা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। যেসব স্থানে রাস্তা কেটে ফেলা হয়েছিল, সেখানে গাড়ি রেখে হেঁটে অভিযান এলাকায় পৌঁছান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক থেকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীত পাশ দিয়ে পাহাড়ি এলাকায় প্রবেশ করলেই শুরু হয় জঙ্গল সলিমপুর। ছিন্নমূল ও আলীনগর—এই দুই অংশে বিভক্ত এলাকাটিতে জেলা প্রশাসনের হিসাবে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।

গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের যৌথ অভিযানে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে বহুবার চেষ্টা করেও পুরো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বরং বিভিন্ন অভিযানে পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন।

যৌথ অভিযানের পর সরকার সেখানে পুলিশ ও র‍্যাবের জন্য দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেয়। এর অংশ হিসেবে আলীনগরে র‍্যাব ক্যাম্প নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। তবে রোববার রাতে সেই ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।

গত ৯ মার্চের অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিন, মশিউর রহমান, নুরুল হক ভান্ডারি, গাজী সাদেক ও গোলাম গফুরসহ কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, যৌথ অভিযানের আগে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল অংশ নিয়ন্ত্রণ করত রোকন বাহিনী এবং আলীনগর অংশ ছিল ইয়াসিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।