সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, যারা অতীতে অসংখ্য মানুষকে অন্যায়ভাবে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছিল, ইনশাআল্লাহ তাদের প্রত্যেকের বিচার এ দেশের মাটিতেই সম্পন্ন করা হবে।
শনিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের এক বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, মূলত তাঁদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতেই নতুন এই রাজনৈতিক সংগ্রাম। এই শহীদদের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রে আমূল সংস্কার আনা, যেন কোনো প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ না পান। দেশের জনগণ সেই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। আন্দোলনের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, রাজশাহীর প্রতিটি ওলিগলি আজও শহীদের রক্তের সাক্ষ্য দিচ্ছে। অসংখ্য মানুষের পায়ে এখনো বুলেটের ক্ষত রয়েছে, কেউ হাত হারিয়েছেন, আবার অনেক বাবা-মা তাঁদের সন্তান হারিয়েছেন।
জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশের সামগ্রিক স্বার্থে তারা দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ধারণ করছেন, তবে সেই ধৈর্যের বাঁধ যেন ভেঙে না যায়। জনগণের কাছে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অতীতে অনেক মীরজাফর ও গাদ্দারকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া পতাকার উত্থান হলেও বাংলাদেশের তৌহিদী জনতা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কাউকে ভয় পায় না এবং যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে।
সীমান্তে অব্যাহত হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদল নিজেদের বড় জাতীয়তাবাদী দাবি করলেও সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে, অথচ তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে। এই ধরনের মেকি জাতীয়তাবাদের কোনো প্রয়োজন বাংলাদেশে নেই। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর বাণী স্মরণ করে তিনি বলেন, ভারত যত বড় রাষ্ট্রই হোক না কেন, এ দেশের পানির ন্যায্য অধিকার আমরা কোনোভাবেই ছেড়ে দেব না।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবসে অভিন্ন নদীর পানির অধিকার আদায়, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, গণভোটের রায় কার্যকর, গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে রাজপথ থেকে যে গণসংগ্রাম শুরু হয়েছে, তা চূড়ান্ত আজাদী বা মুক্তি অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।