টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিলক নদীর ওপর নির্মিত শিলক সেতু ধসে পড়েছে। এতে রাঙামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে রাঙামাটির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকায় সেতুটি ধসে পড়ে। এতে সেতুর দুই প্রান্তে হাজারো মানুষ আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক বিভাগের সূত্র জানায়, সেতুটি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ভেতরে অবস্থিত হলেও এটি বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন। সেতু ধসে পড়ায় কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বালাঘাটা ও স্বর্ণমন্দির এলাকায় সড়ক ও সেতু পানিতে তলিয়ে থাকায় তাদের দল এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি বলেন, পানি নেমে গেলে দ্রুত বেইলি সেতু স্থাপনের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, চট্টগ্রাম জেলার প্রশাসনিক এলাকায় শিলক নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেঙে গেছে। তবে এটি বান্দরবান সড়ক বিভাগের অধীন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, সেখানে বেইলি সেতু স্থাপন করতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগতে পারে।
এদিকে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার-ভাটার পানি বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফেরি চলাচল আবার স্বাভাবিক করা হয়।
অবিরাম বৃষ্টিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শনিবার বাঘাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়িতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
রাইখ্যং নদীর তীব্র স্রোতের কারণে সেখানে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। বন্যার পানিতে ফারুয়া ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফারুয়া বাজার, তক্তানালা, ওড়াছড়ি, যমুনা ছড়ি, যামু ছড়া, শুক্কর ছড়ি, চাইন্দা, আলেচং, রোয়াপড়া ছড়া, এগুজ্যা ছড়ি, ঝাংবিল, উলুছড়ি, তাড়াছড়ি, চাইন্দা পাড়া, গোয়াইন ছড়ি পাড়া, আকাটা ছড়া, ফঁ ছড়া ও চংড়াছড়িসহ আরও বেশ কয়েকটি এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
এ ছাড়া রাজস্থলী-বিলাইছড়ি সীমান্ত সড়কের উদয়চর এলাকায় বড় ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা এবং বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হারুন জানান, শুক্রবার রাতের ভারী বৃষ্টিতে পুরো ফারুয়া বাজার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তাদের ভাষ্য, প্রতি বছরই বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের সময় বাজারটি ডুবে যায়।
ফারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে বিদ্যালয়ের নিচতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। স্রোত কমে এলেই ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হবে।
তিনি আরও জানান, ফারুয়া ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম ও বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইউনিয়নে প্রায় ১১ হাজার এবং পুরো বিলাইছড়ি উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।