চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একজন অত্যন্ত দক্ষ ও বন্ধুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ সাত বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
বাণিজ্য যুদ্ধ প্রশমন এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে দুই শীর্ষ নেতা এই সম্মেলনে মিলিত হন।
রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসন এবং ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির বিষয়ে বেইজিংয়ের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন ট্রাম্প। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার গুরুত্ব নিয়ে উভয় নেতা ঐকমত্য পোষণ করেন।
সহজ আলোচনার মাঝেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে শি জিনপিং অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তাইওয়ান সংকট নিরসনে কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে দুই পরাশক্তির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থায়ী অবনতি হতে পারে বলে ট্রাম্পকে সরাসরি সতর্ক করেন তিনি। অন্যদিকে, মানবাধিকার ইস্যুতে হংকংয়ের কারাবন্দি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জিমি লাইয়ের মুক্তির বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
২০১৭ সালের পর প্রথম এই সফরটি চীন-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধে নতুন কোনো মোড় নিয়ে আসে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল। বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের একক আধিপত্য ধরে রাখা এবং অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় দুই নেতার এই মুখোমুখি অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।