নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি আবাসিক ভবন থেকে সাদিয়া আক্তার নামের তেইশ বছর বয়সী এক নারী গার্মেন্টস কর্মীর নিথর দেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
গত সোমবার রাত এগারোটার দিকে নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার শাহজাহান মাস্টারের মালিকানাধীন একটি ভাড়া বাসা থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে ওই নারীর স্বামী দাবি করা এক ব্যক্তি এবং তার ছয় বছর বয়সী কন্যাসন্তানের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পুরো বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, প্রাণ হারানো সাদিয়া আক্তার পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া থানার অন্তর্গত উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মো. ইউসুফ মোল্লার সন্তান। তিনি আদমজী ইপিজেডের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। চলতি মাসের ১ তারিখে সাদিয়া আক্তার ওই নাবালিকা শিশু এবং স্বামী পরিচয় দেওয়া এক অজ্ঞাত পুরুষসহ বাসাটি ভাড়া নেন। বাসস্থানটি ভাড়া নেওয়ার সময় তিনি নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি জমা দিলেও সঙ্গীয় পুরুষের পরিচয়পত্র পরবর্তীতে দেবেন বলে বাড়ির মালিককে আশ্বস্ত করেছিলেন।
পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, উদ্ধারকৃত মরদেহের মুখের বাম দিকে জখমের দাগ রয়েছে এবং সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে ছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, সোমবারের কোনো এক সময়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মরদেহ উদ্ধারের আগেই ওই ফ্ল্যাটে থাকা পুরুষ ও শিশুটি সেখান থেকে চলে যায়। বর্তমানে তাদের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নম্বরই নিষ্ক্রিয় পাওয়া যাচ্ছে। সুরতহাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মাসুম বিল্লাহ জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করতে হবে। ঘটনার অন্তরালে থাকা আসল রহস্য উন্মোচন এবং নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে।