শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

শিক্ষাই মানব চরিত্রের মূল ভিত্তি: মাহদী আমিন

লন্ডনে চলমান আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনে অংশ নিয়ে মানুষের জীবনের প্রকৃত বিকাশ ও মূল্যবোধ গঠনে শিক্ষার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি উল্লেখ করেছেন, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট অর্জনই শিক্ষার একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না।

শিক্ষাই মানব চরিত্রের মূল ভিত্তি: মাহদী আমিন
ছবি : সংগৃহীত

লন্ডনে চলমান আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনে অংশ নিয়ে মানুষের জীবনের প্রকৃত বিকাশ ও মূল্যবোধ গঠনে শিক্ষার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি উল্লেখ করেছেন, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট অর্জনই শিক্ষার একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে এক একজন দায়িত্বশীল বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, কর্মক্ষেত্রে এবং শিক্ষাজীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞা, যোগ্যতা ও জ্ঞান অর্জনের মধ্য দিয়েই মূলত একজন ব্যক্তি নিজেকে বিকশিত করতে পারেন।

যুক্তরাজ্যের রাজধানীতে আয়োজিত ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম-২০২৬’ এর একটি বিশেষ অধিবেশনে সোমবার তিনি এই মন্তব্য করেন। বিশ্বজুড়ে শিক্ষা খাতের অন্যতম বৃহৎ এই মেলবন্ধনে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ পৃথিবীর দেড় শতাধিক রাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নিচ্ছেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টার এই দূরদর্শী বক্তব্য ও উপস্থিতির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষভাবে তুলে ধরেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ। তাদের অফিশিয়াল পেজে প্রকাশিত একটি বিশেষ বার্তায় জানানো হয়, মূল্যবোধের বিকাশ ও বিশ্ব নাগরিকত্ব তৈরিতে শিক্ষার ভূমিকা নিয়ে মাহদী আমিনের এমন চিন্তা সত্যি দারুণ অনুপ্রেরণা জোগায়। সেই সাথে তারা শিক্ষার টেকসই অগ্রগতির জন্য নতুন ধারার অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক মেলবন্ধনের ব্যাপারে ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈশ্বিক ফোরামে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতি প্রকাশ করে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওয়ালে একটি দীর্ঘ আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, চার দিনের সফরে তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, যেখানে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি ও বিশ্ব নেতারা সমবেত হয়েছেন।

লন্ডনের সাথে নিজের জীবনের গভীর সংযোগের কথা স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, এই শহরটি তাঁর যাপিত জীবনের বহু চড়াই-উতরাই ও স্মৃতির সাথে জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের বহু ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সংকটের মুহূর্তে তিনি এই শহরে থেকেই দেশের গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন। বিশেষ করে আজ থেকে দেড় দশক আগে এই লন্ডনেই দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ ও পথচলা শুরু হয়েছিল, যা সময়ের সাথে সাথে আরও সুদৃঢ় হয়েছে। বিগত বিশ বছর ধরে নিয়মিত এই শহরে পা রাখলেও, এবারের সফরটি তাঁর কাছে একদম ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে এসেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে সাধারণ অবস্থান থেকে এই শহরে আসলেও এবারই প্রথম তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদের এক বিশাল গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে লন্ডনের চেনা পথে হাঁটছেন। দেশের জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বের অধীনে তিনি সম্পূর্ণ সততা ও নিষ্ঠার সাথে মাতৃভূমির কল্যাণে নিজেকে সঁপে দিতে চান। বাংলাদেশের যুবসমাজ, নারী ও আগামী প্রজন্মের অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি দক্ষ ও আদর্শবান জাতি গঠনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে সময়ের স্বল্পতার কারণে এবার লন্ডনে অবস্থানরত সব শুভাকাঙ্ক্ষী ও বন্ধুদের সাথে দেখা করতে না পারায় আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।