শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের যোগ্যতাসম্পন্ন বা ‘গ্লোবাল সিটিজেন’ হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
শনিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা সহযোগিতা ফোরাম ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই লক্ষ্য ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে জাতির প্রকৃত মেরুদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে উপদেষ্টা বলেন, তিনি কেবল সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে নন, বরং একজন অভিভাবক হিসেবে তাদের সামনে দাঁড়িয়েছেন। তিনি এমন এক শিক্ষাব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেন যেখানে সুনাগরিকত্ব, সততা এবং যোগ্যতাই হবে মূল ভিত্তি। প্রথাগত মুখস্থ বিদ্যা এবং শুধুমাত্র চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হওয়ার চিরাচরিত মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মেধার বিকাশ কেবল নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; যার যে বিষয়ে পড়ার আগ্রহ, তাকে সেই সুযোগই দেওয়া হবে।
মাহদী আমিন আরও জানান, শিক্ষার্থীদের বহুমুখী মেধার বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন উদ্যমে উৎসাহ দিচ্ছে সরকার। ছবি আঁকা, গান বা খেলাধুলার পাশাপাশি যাদের ধর্মীয় চর্চায় আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্য ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধা বিকাশের পথ উন্মুক্ত রাখা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি চীনা, জাপানি, কোরিয়ান বা আরবি ভাষা শেখার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা ঘোষণা করেন যে, বর্তমান শাসনামলে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা নকলের কোনো স্থান থাকবে না। পরীক্ষা যেন শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ভয়ের কারণ না হয়, বরং তারা যেন আনন্দদায়ক পরিবেশের মধ্য দিয়ে সৃজনশীলতা চর্চা করতে পারে, সরকার সেই পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর।
‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের দলগত কাজের দক্ষতা বা ইন্টারপার্সোনাল স্কিল বাড়াতে কাজ করছে সরকার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম সারা বিশ্বের জন্য নিজেদের উন্মুক্ত ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।