সিলেট অঞ্চলজুড়ে হাম ও হামসদৃশ রোগের প্রাদুর্ভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের পৃথক দুটি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার থেকে দশ মাস বয়সী আরও তিনটি অবুঝ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন এই প্রাণহানির ফলে অঞ্চলটিতে চলমান এই স্বাস্থ্য সংকটে মোট মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে নিরানব্বইয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার সকালে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের বিবরণ অনুযায়ী, প্রাণ হারানো শিশুদের মধ্যে রয়েছে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবাটোর গ্রামের আলী হোসেনের সাত মাস বয়সী ছেলে কামরুল, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রানি চা বাগানের রাজনের ১০ মাস বয়সী সন্তান কৃপা এবং সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কলারকুটি গ্রামের মুকিত আহমদের চার মাস বয়সী ছেলে নাহিদ আহমদ। এদের মধ্যে কামরুল ও কৃপা সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং নাহিদ আহমদ ডা. শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, নতুন করে মারা যাওয়া এই তিন শিশুকে নিয়ে পুরো সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৯৯ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় চারজনের শরীরে সরাসরি হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং অবশিষ্ট ৯৫ জন শিশু হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
এদিকে মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার হারও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত এক দিনে হাম ও এর সদৃশ লক্ষণ নিয়ে বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আরও ৬৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। নতুনদের মধ্যে ডা. শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩১ জন, এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চারজন এবং নর্থ ইস্ট হাসপাতালে দুজন নতুন রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৯৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার তথ্যে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ১২০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ছাড়া ডা. শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১০১ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২৮ জন, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসাধীন আছেন। পাশাপাশি নর্থ ইস্ট হাসপাতালে সাতজন, লাইফ এইড অ্যাপোলো ও হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন করে এবং বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাকি রোগীরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।