শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় এক ৬ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আবুল বাসার (৬০) নামের এক মাদরাসা শিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেলের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আবুল বাসার জাজিরায় একটি মহিলা মাদরাসায় শিক্ষকতা করার পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদে ইমামতি করেন। মঙ্গলবার বিকেলে ওই মাদরাসারই এক শিশু শিক্ষার্থীকে তিনি নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে জাজিরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ভুক্তভোগী শিশুর মা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, "মহিলা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন তার মেয়ে। সেই হিসেবে বিকেলে তার কাছে যেতে বলেন অভিযুক্ত আবুল বাসার। পরে তিনি সেই মাদ্রাসার একটি কক্ষে ওই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তখন আশপাশের লোক বিষয়টি জানতে পেরে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।"
তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি
অভিযুক্ত ব্যক্তি জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। এই বিষয়ে জাজিরা উপজেলার জামায়াতের সূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য তাজুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, "আবুল বাসার জামায়াতের কোনো নেতা নয়। তিনি আমাদের দলের সমর্থক। তিনি যদি অপরাধী হয়ে থাকে তার সর্বোচ্চ বিচার হোক সেটাই আমি চাই।"
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত আবুল বাসারকে অপরাধ স্বীকার করতে দেখা গেছে। ভিডিওতে তিনি বলেন, "হয়তো শয়তানের ধোঁকায় পড়ে আমি এটা করেছি।"
একই সাথে ভিডিওতে তাকে জামায়াত ইসলামীর সমর্থক হিসেবেও পরিচয় দিতে শোনা যায়।
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এই বিষয়ে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।