বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঠাকুরগাঁওয়ে দীর্ঘ প্রায় এগারো বছর আগের একটি বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের মামলার চূড়ান্ত রায়ে মূল অভিযুক্ত মো. আব্দুল মমিন নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ছবি : সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ে দীর্ঘ প্রায় এগারো বছর আগের একটি বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের মামলার চূড়ান্ত রায়ে মূল অভিযুক্ত মো. আব্দুল মমিন নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সাথে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, জরিমানার এই সম্পূর্ণ অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে। আসামির বিদ্যমান স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে এই অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অধীনস্থ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় প্রকাশ করেন। সাজাপ্রাপ্ত মো. আব্দুল মমিন জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার অন্তর্গত ভাঙবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের প্রয়াত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের সন্তান।

নথিপত্র ও আইনি সূত্র থেকে জানা যায়, বিগত ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত আটটার দিকে চৌদ্দ বছর বয়সী ওই বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ঘরে একা রেখে তার মা প্রতিবেশীর বাড়িতে যান। ঘণ্টাখানেক পর রাত নয়টার দিকে বাড়ি ফিরে তিনি দেখতে পান যে প্রতিবেশী আব্দুল মমিন তার সন্তানকে নির্যাতন করছে। সে সময় তিনি বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর শুরুতে স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার শেষ পর্যন্ত রাণীশংকৈল থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে।

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শেষে আদালতে সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের জবানবন্দি, চিকিৎসকের দেওয়া প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা শোনান।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, জরিমানার পুরো অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। যদি আসামির বর্তমান সম্পত্তি থেকে এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব না হয়, তবে ভবিষ্যতে তার মালিকানায় আসা যেকোনো সম্পদ থেকে এই দাবি সবার আগে মেটাতে হবে। প্রচলিত আইনের ধারা মোতাবেক জেলা প্রশাসককে আসামির সম্পত্তি নিলামের মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করে আদালতে জমা দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এই মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. এরশাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি বা খালাস প্রদান করেছেন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই রায়ের পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক মন্তব্য করেন, দীর্ঘ ১১ বছরের আইনি লড়াই শেষে একটি প্রান্তিক পরিবার অবশেষে সুবিচার পেল। বিশেষ করে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের যে কঠোর নির্দেশনা আদালত দিয়েছেন, তা ভবিষ্যতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে একটি অনন্য নজির হয়ে থাকবে।