শরীয়তপুরের নড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে নগদ ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধারসহ জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া এলাকায় অভিযানটি পরিচালিত হয়। আটক ব্যক্তি গোলাম মোস্তফা, যিনি শহিদ সামাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের জলিল মাস্টারের বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন কর্মী টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করেছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাসের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নগদ ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, একটি ল্যাপটপ এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়।
আটক চারজনের মধ্যে গোলাম মোস্তফাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বাকি তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, তারা সবাই শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন ককাউলের কর্মী।
ঘটনার বিষয়ে নড়িয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে ব্যাগে কিছু টাকা পাওয়া গেছে। এরপর ঘটনাস্থলে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসেছিল। জানতে পেরেছি, সেখানে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল। পরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যাচাইবাছাই শেষে তাদের মধ্যে একজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও বাকিদের ছেড়ে দিয়েছেন বলে শুনেছি।”
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাতে সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরণ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “জামায়াতের প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ভাটায় পড়ে যাওয়ার কারণে তিনি এখন টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন। যারা এ ঘটনায় ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক- ভবিষ্যতে আর কেউ যেন এমন ঘটনা ঘটারে সাহস না পায়।”