বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ঢাকা সফর করছেন আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী আহমাদুল্লাহ জাহিদ। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশটির কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর। এই সফরে তিনি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ চলাচল শুরু এবং বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তানে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
সফরকালে আহমাদুল্লাহ জাহিদ বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে তিনি ঢাকা ও কাবুলের মধ্যে পণ্য আনা-নেওয়ার পথ সহজ করতে সরাসরি কার্গো বিমান চলাচলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আফগান উপমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, কাবুল থেকে ফলমূল বাংলাদেশে আসবে এবং ফিরতি ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ আফগানিস্তানে পাঠানো হবে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধের গুণগত মানের প্রশংসা করে আরও বেশি পরিমাণে ওষুধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই আগ্রহের অংশ হিসেবে তার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে আলাপকালে আফগান উপমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধার দাবি জানান। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যসচিব জানান, এটি একটি প্রাথমিক সৌজন্য আলোচনা ছিল। শুল্কমুক্ত সুবিধা বা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়গুলো একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়, যা তাকে অবহিত করা হয়েছে।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণেই পাঁচ সদস্যের এই আফগান প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসেছে। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের সিংহভাগই দখল করে আছে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প। এই খাতের সম্ভাবনা যাচাই করতে এর আগেও দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করেছিলেন। এবারও উপমন্ত্রী নিজে কারখানাগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে আমদানির পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান। যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আফগানিস্তানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সেখানে বিনিয়োগ করার জন্যও তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।