মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে র্যালি ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্য মজুরির দাবি তুলে ধরেছে ভাসানী জনশক্তি পার্টি। পুরাতন পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শ্রমিক সমাবেশে রূপ নেয়। এতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বর্তমান বাস্তবতায় শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এটি কেবল স্লোগান নয়, বাস্তব সত্য।’
তিনি আরও বলেন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি শ্রমিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম বলেন, ‘মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেছিলেন—‘কেউ খাবে কেউ খাবে না, তা হবে না’। সেই বৈষম্যবিরোধী চেতনা থেকেই ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও সেই বৈষম্য পুরোপুরি দূর হয়নি। আজও বহু মানুষ স্টেশন, ফুটপাত ও ফ্লাইওভারের নিচে ক্ষুধার্ত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে এবং এর ধারাবাহিকতায় জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। তার মতে, এই সনদের আলোকে সংস্কার বাস্তবায়ন হলে সব শ্রেণির মানুষ ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আলোকে দেশ পরিচালনা করলে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
বক্তারা শ্রমিক আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, হে মার্কেট আন্দোলনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন, যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে দেয়। তারা বলেন, সেই ঐতিহাসিক চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক—ন্যায্য মজুরি ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাবুল বিশ্বাস, প্রেসিডিয়াম সদস্য, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও আহ্বায়ক, ভাসানী শ্রমিক পার্টি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রফেসর হারুনুর রশিদ।
এছাড়াও বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, বিলকিস খন্দকার, মোশাররফ হোসেন, মুনির হোসেন সরকার, নারী নেত্রী শাহানা, কেন্দ্রীয় নেতা ইমরুল হাসান ওয়াসিম, আসিমসহ আরও অনেকে।
সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।