ইরানের ভূখণ্ডে যদি শত্রুপক্ষ কোনো ধরনের স্থল অভিযান পরিচালনার দুঃসাহস দেখায়, তবে একজন শত্রুসেনাও যেন জীবিত ফিরে যেতে না পারে—এমন কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার এই চরম হুঁশিয়ারির কথা জানানো হয়।
সেনাপ্রধান আমির হাতামি স্পষ্ট করে বলেন, বিদেশি শক্তিগুলো যদি স্থলপথে আক্রমণের চেষ্টা করে, তবে তাদের শোচনীয় পরিণতি ভোগ করতে হবে। কোনো আগ্রাসনকারী সৈন্যকেই প্রাণ নিয়ে ফিরতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সামরিক সদর দপ্তরকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। শত্রুর প্রতিটি গতিবিধি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের আকস্মিক হামলা মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীকে পূর্ণ প্রস্তুতি বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে একটি শব্দহীন ভিডিও চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আমির হাতামিকে আরও তিনজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের সঙ্গে একটি কক্ষে বসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রায় এক ডজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়। তবে এই ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিন্ন সুর দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান সংঘাত এখন শেষের পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এর সমাপ্তি ঘটতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদের বিপরীতে উপসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা সংখ্যা বাড়ানোর এই পদক্ষেপ মূলত একটি সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।