সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সংঘটিত এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের প্রভাবশালী সাহাদিপ মেম্বার ও মনির পক্ষের লোকজনের মধ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আলীনগর গ্রামের দুটি বিলের ইজারা ও ভোগদখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। মনির পক্ষের লোকজন বেশ কয়েক বছর ধরে সাত-আটটি গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে বিল দুটি ব্যবহার করে আসছিলেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ডের সদস্য সাহাদিপ ও তার অনুসারীরা বিল দুটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে ইউপি সদস্যের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণ চালায়। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্র ও রডের আঘাতে মনির পক্ষের ৩০ জন এবং সাহাদিপ পক্ষের ১০ জন জখম হন।
আহতদের স্বজনরা জানান, সাহাদিপ মেম্বারের পক্ষের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে এবং প্রতিপক্ষের নামে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আক্রান্তরা যখন হাওরে ধান কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। রাত ১১টার দিকে আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেটে পাঠানো হয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আলীনগর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।