সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন অপহৃত ১৪ জেলে

সুন্দরবনে অপহরণের দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর বনদস্যুদের দাবি করা মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে অবশেষে মুক্ত হয়েছেন ১৪ জন জেলে।

সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন অপহৃত ১৪ জেলে
ছবিঃ সংগৃহীত

সুন্দরবনে অপহরণের দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর বনদস্যুদের দাবি করা মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে অবশেষে মুক্ত হয়েছেন ১৪ জন জেলে।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠুর পাঠানো একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফিরে আসা জেলেরা নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরের বিভিন্ন শুঁটকি মহাজনের অধীনে কর্মরত ছিলেন।

জানা গেছে, দস্যুদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিটি জেলের বিনিময়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দিতে হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রথমে করিম শরীফ বাহিনী শেলার চর শুঁটকি পল্লী থেকে একটি ট্রলারসহ ৬ জেলেকে অপহরণ করে। এর কয়েকদিন পর ১৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী আরও ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জন জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। মুক্তিপ্রাপ্ত ১৪ জন জেলে মিজান মালি, শাহিনুর মালি, হাবিব ও রবি মহাজনের অধীনে কাজ করতেন।

দুবলার চর শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় জেলে ও মহাজনদের বরাতে জানান, দস্যুরা তাদের কাঙ্ক্ষিত চাঁদা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ। তারা যেকোনো সময় পুনরায় শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে আরও বড় সংখ্যক জেলেকে অপহরণের হুমকি দিয়েছে। দস্যুদের এমন হুমকিতে বর্তমানে চরাঞ্চলের শুঁটকি উৎপাদনকারী ও জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবনে দস্যু দমনে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান শুরু হলেও পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় এর কোনো কার্যকর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। ফলে এই এলাকাটি এখন দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দস্যুরা শুধু জেলে অপহরণই নয়, বরং মহাজনদেরও প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শরণখোলা রেঞ্জে দ্রুত ও জোরালো অভিযান পরিচালনার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে।