বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

শুরু হলো ভাষার মাস- ফেব্রুয়ারি

ফেব্রুয়ারি এলেই বাঙালির হৃদয়ে জেগে ওঠে ভাষার জন্য আত্মত্যাগের স্মৃতি ও আবেগ। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি’—এই চরণে ভর করে আজ ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হলো বাঙালি জাতীর ভাষার মাস। রাষ্ট্রভাষা বাংলার স্বীকৃতির দাবিতে ঢাকার রাজপথে প্রাণ উৎসর্গের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি তার ভাষাভিত্তিক পরিচয়কে প্রতিষ্ঠা করে।

শুরু হলো ভাষার মাস- ফেব্রুয়ারি

ফেব্রুয়ারি এলেই বাঙালির হৃদয়ে জেগে ওঠে ভাষার জন্য আত্মত্যাগের স্মৃতি ও আবেগ। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি’—এই চরণে ভর করে আজ ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হলো বাঙালি জাতীর ভাষার মাস। রাষ্ট্রভাষা বাংলার স্বীকৃতির দাবিতে ঢাকার রাজপথে প্রাণ উৎসর্গের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি তার ভাষাভিত্তিক পরিচয়কে প্রতিষ্ঠা করে।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে যারা ঢাকার রাজপথে জীবন দিয়েছেন, তাদের স্মরণেই ফেব্রুয়ারি বাঙালির কাছে হয়ে উঠেছে বিশেষ তাৎপর্যের মাস। এ মাস ভাষার মাস, একই সঙ্গে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার সময়। তাই পুরো ফেব্রুয়ারি জুড়ে নানা আয়োজনের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় জাতি।

ভাষা আন্দোলনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসে ১৯৯৯ সালে। সে বছর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর পর থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নানা কর্মসূচি। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরসহ ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো মাসব্যাপী আয়োজনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে।

তবে এ বছর ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রমজানসহ বিভিন্ন কারণে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে বইমেলা শুরু হচ্ছে না।

ভাষা আন্দোলনের পেছনের ইতিহাসে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল, গণপরিষদের সভাপতি ও মুসলিম লিগের সভাপতি মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক জনসভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনো ভাষা নয়।’ পরে কার্জন হলে একই বক্তব্য দেওয়ার সময় কয়েকজন ছাত্র ‘না’ ‘না’ বলে প্রতিবাদ জানালে তিনি অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। ওই ঘটনার পর একদল ছাত্র জিন্নাহর কাছে একটি স্মারকলিপি দেন, যেখানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলা হয়। সেখান থেকেই রাষ্ট্রভাষার দাবিতে আন্দোলনের সূচনা, যা ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে।

বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার সমমর্যাদা দেওয়ার দাবিতে পূর্ব বাংলায় আন্দোলন ক্রমে তীব্র রূপ নেয়। আন্দোলন দমনে ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক ছাত্র ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি পৌঁছালে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অজুহাতে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ আরও অনেকে শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই বাঙালি জাতি অর্জন করে মাতৃভাষার মর্যাদা।