ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আবারও হামলার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তেহরান যদি অবিলম্বে আত্মসমর্পণ না করে, তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ জাতীয় স্থাপনাগুলোতে ধ্বংসাত্মক অভিযান অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আলোচনায় না আসে কিংবা শর্ত মেনে না নেয়, তবে দেশটিতে কোনো অক্ষত সেতু বা সচল বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সব কিছু ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তবে নিজের কৌশলী অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি এর চেয়ে বেশি এগোতে চান না কারণ সামনে আরও বড় লক্ষ্য রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, তার হাতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকলে তিনি ইরানের তেল সম্পদ দখল করে নিতেন এবং তা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে মার্কিন কোষাগার সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি ইরানি জনগণের কল্যাণে ব্যয় করতেন। যদিও তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমেরিকার মানুষ বর্তমানে যুদ্ধ শেষ করে সেনাদের দেশে ফিরে আসা প্রত্যাশা করে।
ইরানের ওপর চলমান ব্যাপক বিমান হামলার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, এই বোমাবর্ষণ বন্ধ হলে সাধারণ ইরানিরাই সবচেয়ে বেশি অখুশি হবে। ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে দেওয়া হবে না—এমন অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি তাদের ‘উন্মাদ’ হিসেবে আখ্যা দেন। ট্রাম্পের মতে, এই ধরনের নেতৃত্বের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা পুরো বিশ্বের জন্য চরম বিপজ্জনক।
সম্প্রতি ইরানে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হওয়া এবং একজন সেনাকে উদ্ধারের ঘটনাকে তিনি ‘লাকি শট’ বা ভাগ্যক্রমে লেগে যাওয়া গুলি হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, বর্তমানে অনেক মার্কিন হেলিকপ্টারেই ইরানি বাহিনীর গুলির চিহ্ন রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।